
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ল্যাপটপে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এক যাত্রীকে বিমানবন্দরে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার আটলান্টা থেকে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।
আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ২৩৯৮ অবতরণের সময় বিমানের পেছনের অংশে থাকা এক যাত্রীর ল্যাপটপ থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং পরে সেটিতে আগুন ধরে যায়।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের হাতে আসা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও অনুযায়ী, পাইলট জানান, “বিমানের পেছনের অংশে কেবিনে আগুন লেগেছে।”
তিনি আরও জানান, “ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা এখন এটি নেভানোর চেষ্টা করছেন।”
পাইলটকে আরও বলতে শোনা যায়, “আমার মনে হয় ল্যাপটপের কারণে প্রায় চার থেকে পাঁচজন যাত্রী পুড়ে গেছেন। ল্যাপটপটি বিমানের মাঝামাঝি অংশে রয়েছে।”
তবে বিমানটি নিরাপদেই ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পর জরুরি বিভাগের কর্মীরা নিয়ম অনুযায়ী বিমানটির কাছে পৌঁছান। একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে কেবিন ক্রু
আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানায়, অবতরণের সময় এক যাত্রীর ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার খবর পাওয়ার পর বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
এয়ারলাইনটি আরও জানায়, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় কেবিন ক্রুদের পেশাদারিত্ব ও তৎপরতার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। অবতরণের পর বিমানটি নিজস্বভাবে গেট পর্যন্ত যায় এবং সেখানে জরুরি বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
ঘটনায় একাধিক যাত্রী আহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও নিশ্চিতভাবে একজন যাত্রীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
লিথিয়াম ব্যাটারি নিয়ে সতর্কতা
ল্যাপটপে ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।
এফএএর মতে, ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অতিরিক্ত গরম হলে, পানির সংস্পর্শে এলে, অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া হলে কিংবা ভুলভাবে প্যাক করা হলে তা বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
চলতি বছর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লিথিয়াম ব্যাটারি-সম্পর্কিত ৫৮টি নিশ্চিত বিমান চলাচল-সংক্রান্ত ঘটনা নথিভুক্ত করেছে এফএএ। এসব ঘটনায় ধোঁয়া, আগুন কিংবা অতিরিক্ত তাপের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২০ বছরে লিথিয়াম ব্যাটারি-সম্পর্কিত বিমান দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে ল্যাপটপের ব্যাটারি জড়িত ছিল এমন ৮৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এফএএ জানিয়েছে, লিথিয়াম ব্যাটারি-চালিত ডিভাইস, বিশেষ করে অতিরিক্ত ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাংক, বিমানের কার্গো বা চেক-ইন লাগেজে না রেখে কেবিনে বহন করা ব্যাগে রাখতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বা আগুনের সৃষ্টি হলে দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
পাওয়ার ব্যাংক নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ
বিমানযাত্রায় লিথিয়াম ব্যাটারি নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। গত মে মাসে মিসর থেকে যুক্তরাজ্যগামী ইজিজেটের একটি ফ্লাইটে যাত্রীর লাগেজে থাকা পাওয়ার ব্যাংক চার্জে দেওয়ার পর বিমানটি রোমে জরুরি অবতরণ করে।
ঘটনার পর ফ্লাইটটি পরদিন নতুন করে পরিচালনা করা হয়।
যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটিও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিমানে পাওয়ার ব্যাংক থেকে গুরুতর সমস্যার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সংস্থাটি যাত্রীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের মতে, বহনযোগ্য চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংকে ব্যবহৃত লিথিয়াম ব্যাটারি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর আবারও বিমানযাত্রীদের ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংক ও অন্যান্য লিথিয়াম ব্যাটারি-চালিত ডিভাইস বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার গুরুত্ব সামনে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি